ডুয়েট ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২৬: আবেদন ফি ও যোগ্যতা জেনে নিন বিস্তারিত!

10

ডুয়েট ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২৬ এর আবেদন প্রক্রিয়া ১২ মে ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ২২ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। ভর্তির জন্য এসএসসি ও ডিপ্লোমায় ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে এবং আবেদন ফি ১,৫০০ টাকা রকেট বা বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে।

ডুয়েট ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২৬: আবেদন ফি ও যোগ্যতা জেনে নিন বিস্তারিত!

বাংলাদেশের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের স্বপ্নের উচ্চশিক্ষার প্রধান বিদ্যাপীঠ ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বা আর্কিটেকচারে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সঠিক সময়ে নির্ভুল আবেদন করা প্রথম ধাপ। উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত বা সদ্য ডিপ্লোমা শেষ করা শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভর্তি বিজ্ঞপ্তিটি একটি নতুন দিগন্ত।

ডুয়েটে ভর্তির আবেদনের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের শেষ সময় ২২ জুন ২০২৬ এবং ১,৫০০ টাকা আবেদন ফি প্রদান করে [ডুয়েট ভর্তি পরীক্ষার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট]-এ গিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা ও ফি

অনলাইনে আবেদন ১২ মে ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে। আবেদনের শেষ সময় ২২ জুন ২০২৬ বিকাল ৪টা পর্যন্ত। আবেদন ফি ১,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যা রকেট, বিকাশ বা অগ্রণী এডুকেশন ফি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার আগে সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। অনেক শিক্ষার্থী আবেদনের শেষ তারিখের জন্য অপেক্ষা করেন, যা সার্ভার জটিলতার কারণে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই ১২ মে থেকে আবেদন শুরু হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে প্রক্রিয়াটি শেষ করা বুদ্ধিমানের কাজ।

আবেদন ফি বাবদ ১,৫০০ (এক হাজার পাঁচশত) টাকা পেমেন্ট করার সময় ট্রানজ্যাকশন আইডি (TrxID) অবশ্যই সংগ্রহ করে রাখবেন। রকেট বা বিকাশের ‘Bill Pay’ অপশন ব্যবহার করে ডুয়েটের নির্ধারিত বিলার কোড বা পেমেন্ট লিংকের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া যাবে। যারা Engineering Admission Coaching বা অনলাইন প্রস্তুতির সাথে যুক্ত, তারা পেমেন্ট করার পর নিশ্চিতকরণ এসএমএসটি গুরুত্বের সাথে সংরক্ষণ করুন।

আবেদনের শিক্ষাগত ও সাধারণ যোগ্যতা

এসএসসিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ এবং ডিপ্লোমায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.০০ (৪.০০ এর স্কেলে) থাকতে হবে। প্রার্থীকে অবশ্যই ২০২৪ বা তার পরবর্তী সনে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং/আর্কিটেকচার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

ডুয়েটে ভর্তির যোগ্যতা সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিছুটা ভিন্ন। মাধ্যমিক বা দাখিল পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর অথবা জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে। এর পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা পরীক্ষায় কমপক্ষে ৬০ শতাংশ নম্বর অথবা সিজিপিএ ৩.০০ অর্জন করা আবশ্যক।

পাসিং ইয়ারের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি রয়েছে। যারা ২০২৪ সনের আগে ডিপ্লোমা শেষ করেছেন, তারা সাধারণত আবেদনের সুযোগ পান না। তবে শিক্ষকতা বা বিশেষ গবেষণায় যুক্ত কর্মকর্তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী এই নিয়ম শিথিল হতে পারে। যারা Higher Education for Diploma Engineers এর স্বপ্ন দেখছেন, তাদের অর্জিত ফলাফল এই শর্তগুলো পূরণ করলে দেরি না করে আবেদন করে ফেলুন।

অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া ও বিভাগ নির্বাচন

আগ্রহী প্রার্থীদের (admission.duetbd.org) লিংকে গিয়ে ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা আইপিই (IPE) এর মতো বিভাগগুলোতে আবেদনের সময় পছন্দক্রম (Choice List) নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনলাইনে আবেদনের সময় প্রার্থীর ৩০০০×৩০০০ পিক্সেলের পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং স্ক্যান করা স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্রিপল ই (EEE) বা কম্পিউটারের মতো বিভাগগুলোতে পৃথক আবেদনের সুযোগ থাকলেও কিছু টেকনিক্যাল বিভাগে সমন্বিত আবেদন করতে হয়।

বিশেষ করে ME, IPE এবং MME বিভাগগুলোর জন্য একটিমাত্র আবেদনের মাধ্যমে আপনি আপনার অগ্রাধিকার অনুযায়ী পছন্দক্রম দিতে পারবেন। চাকরিরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র (NOC) নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখবেন, কোনো তথ্য ভুল দিলে ভর্তি বাতিলের ঝুঁকি থাকে, তাই Identity Theft Protection বা ডেটা সিকিউরিটি নিশ্চিত করে সঠিক তথ্য প্রদান করুন।

ডুয়েট ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কৌশল

ডুয়েটে সফল হওয়ার জন্য নন-টেকনিক্যাল (ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ, ইংলিশ) অংশে ৬০% এবং ডিপার্টমেন্টাল অংশে ৪০% গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিগত বছরের প্রশ্ন ব্যাংক সমাধান করাই প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

ডুয়েট ভর্তি পরীক্ষা একটি দীর্ঘ এবং ধৈর্যশীল প্রক্রিয়া। নন-টেকনিক্যাল সাবজেক্টগুলোর বেসিক ক্লিয়ার করতে হলে ইন্টারমিডিয়েট লেভেলের বইগুলোও কিছুটা দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে গণিত এবং পদার্থবিজ্ঞানে ভালো দখল থাকলে আপনার পজিশন অনেক সামনে থাকবে।

ডিপার্টমেন্টাল বা টেকনিক্যাল অংশের জন্য ডিপ্লোমার ৪ বছরের কোর সাবজেক্টগুলোর সারাংশ পড়ুন। বাজারের জনপ্রিয় ডুয়েট প্রস্তুতি সিরিজের বইগুলো থেকে বিগত ১৫-২০ বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে প্রশ্নের প্যাটার্ন সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পাবেন। যারা Online Math and Physics Courses করেন, তারা নিয়মিত মক টেস্ট দেওয়ার চেষ্টা করুন। [ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ] সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানলে আপনি আপনার লক্ষ্যের প্রতি আরও অবিচল হতে পারবেন।

সঠিক পরিকল্পনা ও অধ্যবসায়

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ একটি আসন নিশ্চিত করা মানে হলো একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের জন্য বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির শ্রেষ্ঠ সুযোগ। সঠিক সময়ে আবেদন সম্পন্ন করে সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশোনা করলে গাজীপুরের এই লাল দালানের ক্যাম্পাসে পদচারণা সম্ভব। প্রস্তুতির প্রতিটি দিন গুরুত্বের সাথে নিন এবং বিষয়ভিত্তিক গভীরতা অর্জন করুন। সঠিক অধ্যবসায় ও আধুনিক Digital Study Materials এর ব্যবহারই আপনাকে কয়েক হাজার প্রতিযোগীর ভিড়ে বিজয়ী করে তুলবে।

সূত্র: https://admission.duetbd.org

আরও পড়ুনNTRCA প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ সহায়িকা: সফল হওয়ার কার্যকর নির্দেশিকা

1 Comment
  1. […] ডুয়েট ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২৬: আবেদন… […]

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.