২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য পদার্থবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় অর্থাৎ ‘বল’ (Force) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এই অধ্যায়টি শুধু যে বোর্ড পরীক্ষার জন্য জরুরি তা নয়, বরং বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি বোঝার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। আমি যখন শিক্ষার্থীদের পড়াই, তখন দেখি অনেকেই জড়তা বা ঘর্ষণের প্রকারভেদে ভুল করে। আপনাদের সুবিধার্থে গবর্নমেন্ট সায়েন্স হাইস্কুলের অভিজ্ঞ শিক্ষক রমজান মাহমুদ স্যারের সংগৃহীত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও সেগুলোর ব্যাখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো।
বল, জড়তা ও মৌলিক বলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
পদার্থবিজ্ঞানের এই অংশে জড়তা এবং ভরের পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচনা করা হয়েছে। জড়তা হলো বস্তুর সেই ধর্ম যা তাকে তার বর্তমান অবস্থায় থাকতে বাধ্য করে। সহজভাবে বললে, যে বস্তুর ভর যত বেশি তার জড়তাও তত বেশি। এই কারণেই বেশি ভরের একটি বস্তুর বেগের পরিবর্তন করা বা তাকে গতিশীল করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার, প্রকৃতিতে আমরা মূলত চারটি মৌলিক বলের দেখা পাই। পাল্লার দিক থেকে মহাকর্ষ বল বিশাল হলেও শক্তির বিচারে এটিই সবচেয়ে দুর্বল বল। তবে একে পদার্থবিজ্ঞানের একটি ‘চমকপ্রদ বল’ বলা হয় কারণ এটি নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির মতো বিশাল মহাজাগতিক কাঠামোর শৃঙ্খলা বজায় রাখে।
নিউক্লীয় শক্তি ও বলের সাম্যাবস্থা
পরমাণুর অণুবীক্ষণিক জগত বুঝতে হলে সবল নিউক্লীয় বলের ধারণা থাকা প্রয়োজন। সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল হলো সবল নিউক্লীয় বল, যা প্রোটন ও নিউট্রনকে নিউক্লিয়াসের ভেতর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে আটকে রাখে। এটি না থাকলে আমরা বর্তমান মহাবিশ্বের কোনো বস্তুরই অস্তিত্ব পেতাম না। অন্যদিকে, বলের প্রয়োগগত দিক নিয়ে কথা বলতে গেলে ‘সাম্য বল’ অত্যন্ত পরিচিত একটি শব্দ। যখন কোনো বস্তুর ওপর বিপরীত দিক থেকে দুটি সমান মানের বল ক্রিয়া করে, তখন তাদের লব্ধি শূন্য হয়। এই অবস্থাকেই সাম্য বল বলা হয়, যা বস্তুর গতির অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটায় না।
ঘর্ষণের প্রকারভেদ ও বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ
ঘর্ষণ সবসময় গতির বিপরীতে কাজ করে বাধা দান করে। তবে এই বাধা মাধ্যমভেদে ভিন্ন হতে পারে। যেমন, বায়ু বা পানির মতো প্রবাহী পদার্থের মধ্য দিয়ে চলার সময় ‘প্রবাহী ঘর্ষণ’ কাজ করে। এই কারণেই প্যারাসুটে চড়ে আকাশ থেকে নামার সময় বা মাছের পানির ভেতর চলাচলের সময় প্রবাহী ঘর্ষণের মোকাবিলা করতে হয়। অনেকে মনে করেন ঘর্ষণ কেবল ক্ষতিই করে, কিন্তু বাস্তবে ঘর্ষণ ছাড়া আমরা হাঁটতে পারতাম না। ঘর্ষণ বৃদ্ধি করতে হলে তলকে অমসৃণ করতে হয়। এই বিশেষ কারণেই আমাদের জুতার নিচে খাঁজকাটা থাকে, যা পিচ্ছিল তলে প্রয়োজনীয় ঘর্ষণ বলের জোগান দিয়ে আমাদের নিরাপদ রাখে।
একনজরে সঠিক উত্তরমালা
আপনার প্রস্তুতির সুবিধার্থে উত্তরগুলো নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
| প্রশ্ন নং | সঠিক উত্তর | প্রশ্ন নং | সঠিক উত্তর | প্রশ্ন নং | সঠিক উত্তর |
| ১ | ঘ | ৬ | ক | ১১ | গ |
| ২ | গ | ৭ | ঘ | ১২ | খ |
| ৩ | গ | ৮ | খ | ১৩ | ঘ |
| ৪ | ক | ৯ | ঘ | ১৪ | খ |
| ৫ | ঘ | ১০ | ক | ১৫ | খ |
শেষ কথা ও প্রস্তুতি পরামর্শ
২০২৬ সালের এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে হলে থিওরি পড়ার পাশাপাশি এই ধরণের MCQ গুলো বুঝে সমাধান করা জরুরি। বিশেষ করে মৌলিক বলের তুলনা এবং ঘর্ষণের প্রভাবগুলো বাস্তব উদাহরণ দিয়ে চিন্তা করলে উত্তর দেওয়া সহজ হবে। নিয়মিত অনুশীলনের জন্য আপনারা বোর্ড কারিকুলাম অনুসরণ করতে পারেন।
তথ্যসূত্র ও যাচাই: মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং রমজান মাহমুদ (সিনিয়র শিক্ষক), গবর্নমেন্ট সায়েন্স হাইস্কুল, ঢাকা।
[…] […]