আইএলটিএস পরিবর্তন ২০২৬: পেপার বেজড পরীক্ষা বন্ধ, বাধ্যতামূলক কম্পিউটার
আইএলটিএস পরীক্ষাপদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কাগজ-কলম অতীত, বাধ্যতামূলক কম্পিউটার
- আপডেট সময় : ১২:০৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২ বার পড়া হয়েছে
IELTS exam format change 2026: ইংরেজি ভাষা দক্ষতা যাচাইয়ের আন্তর্জাতিক মাপকাঠি আইএলটিএস (IELTS) পরীক্ষায় আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের প্রচলিত কাগজ-কলমের (Paper-based) পরীক্ষা পদ্ধতি চিরতরে বন্ধ হতে যাচ্ছে। ব্রিটিশ কাউন্সিল (বাংলাদেশ) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আইএলটিএস পরীক্ষা সম্পূর্ণরুপে ‘কম্পিউটার ডেলিভারড টেস্ট’ (CDT) বা কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে।
আইএলটিএস পরিবর্তন ২০২৬: পেপার বেজড পরীক্ষা বন্ধ, বাধ্যতামূলক কম্পিউটার
এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এর পর আর কোনো পেপার বেজড পরীক্ষা নেওয়া হবে না। বিশ্বব্যাপী পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং সময়োপযোগী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: WiFi স্পিড বাড়ানোর উপায়: রাউটারের সেটিংসে ছোট কিছু পরিবর্তন করে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর ৫টি টিপস।
আমাদের শিক্ষা ডেস্ক থেকে আজকের প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনের খুঁটিনাটি, পরীক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব এবং কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষার সুবিধাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১ ফেব্রুয়ারি থেকে কী বদলাচ্ছে?
ব্রিটিশ কাউন্সিলের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কাগজভিত্তক পরীক্ষার অপশনটি আর রেজিস্ট্রেশন ফর্মে পাওয়া যাবে না।
- শেষ তারিখ: পেপার বেজড পরীক্ষার শেষ দিন ৩১ জানুয়ারি ২০২৬।
- নতুন নিয়ম: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সকল পরীক্ষার্থীকে কম্পিউটারে টাইপ করে পরীক্ষা দিতে হবে।
- ফি সমন্বয়: যাদের পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি বা তার পরে পেপার বেজড মোডে নির্ধারিত ছিল, তারা কোনো অতিরিক্ত ফি ছাড়াই কম্পিউটার মোডে শিফট করতে পারবেন।
ব্রিটিশ কাউন্সিল তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলেছে, “১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে আইএলটিএস পরীক্ষা কম্পিউটার ফরম্যাটে শুরু হবে। এই পরিবর্তনটি পরীক্ষার্থীদের দ্রুততর এবং আরও সুবিন্যস্ত অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।”
কম্পিউটার ডেলিভারড টেস্ট (CDT): ভয়ের কিছু আছে কি?
অনেক পরীক্ষার্থীর মনেই প্রশ্ন—কম্পিউটারে পরীক্ষা কি কঠিন হবে? প্রশ্নপদ্ধতি কি বদলে যাবে? এর উত্তর হলো—না।
কম্পিউটারভিত্তিক আইএলটিএস এবং কাগজের পরীক্ষার মধ্যে মূল পার্থক্য শুধু মাধ্যমটিতে। ১. প্রশ্নপত্র: রিডিং, রাইটিং এবং লিসেনিং—সব মডিউলের প্রশ্ন আগের মতোই থাকবে। ২. স্কোরিং: নম্বর দেওয়ার মানদণ্ড বা মার্কিং ক্রাইটেরিয়া অপরিবর্তিত থাকবে। ৩. পার্থক্য: আগে পেন্সিল দিয়ে উত্তরপত্রে লিখতে হতো, এখন কি-বোর্ড ব্যবহার করে টাইপ করতে হবে এবং মাউস দিয়ে অপশন সিলেক্ট করতে হবে। স্পিকিং টেস্ট আগের মতোই একজন পরীক্ষকের সাথে সামনাসামনি (Face-to-face) অনুষ্ঠিত হবে।
কেন এই পরিবর্তন? পরীক্ষার্থীদের লাভ কী?
প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা বয়ে আনবে।
- দ্রুত ফলাফল: পেপার বেজড পরীক্ষায় রেজাল্ট পেতে ১৩ দিন সময় লাগত। কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষায় মাত্র ১ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যায়।
- ফ্লেক্সিবিলিটি: কম্পিউটারে পরীক্ষার সেশন অনেক বেশি থাকে। পরীক্ষার্থীরা নিজেদের সুবিধা মতো তারিখ এবং সময় (সকাল/বিকেল) বেছে নিতে পারেন।
- হাতের লেখা: যাদের হাতের লেখা খারাপ বা অস্পষ্ট, তাদের জন্য টাইপিং একটি বড় স্বস্তির বিষয়।
পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে যারা পরীক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের এখন থেকেই টাইপিং প্র্যাকটিস বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
- টাইপিং স্পিড: খুব দ্রুত টাইপ করতে হবে এমন নয়, তবে নির্ভুল টাইপিং জরুরি।
- মক টেস্ট: বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ফ্রি কম্পিউটার বেজড আইএলটিএস মক টেস্ট দিয়ে ইন্টারফেসের সাথে পরিচিত হয়ে নেওয়া ভালো।
- স্ক্রিন রিডিং: স্ক্রিনে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে প্যাসেজ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
আইএলটিএস-এর এই আধুনিকায়ন বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিকাশ সেভিংস স্কিম: মাসে ৫০০ টাকা জমিয়ে ব্যাংকের মতো ডিপিএস করার নিয়ম





























One thought on “আইএলটিএস পরীক্ষাপদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কাগজ-কলম অতীত, বাধ্যতামূলক কম্পিউটার”