ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
চাকরির খবর পত্রিকা ৩০ জানুয়ারি ২০২৬: ডাউনলোড করুন আজকের HD পিডিএফ (PDF) বিকেএসপিতে নিয়োগ: শিক্ষক ও প্রকৌশলীসহ ৪ ক্যাটাগরিতে চাকরি, আবেদন ফি ২০০ টাকা ওয়ালটনে ‘টেরিটরি সেলস এক্সিকিউটিভ’ পদে চাকরির সুযোগ ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজে চাকরি: ড্রাইভার পদে বিশাল নিয়োগ ২০ হাজারে এআই ফিচার! দেশে এল টেকনোর ‘Megapad SE’, জানুন বিস্তারিত শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ালটন ও শিখো’র ‘এডুট্যাব’: দাম ১৭,৫০০ টাকা, জানুন বিস্তারিত ফিচার ওপেনএআইয়ের প্রথম হার্ডওয়্যার: জনি আইভের ডিজাইনে আসছে চ্যাটজিপিটি ইয়ারবাডস! দেশে এল ইনফিনিক্স নোট এজ: কার্ভড ডিসপ্লে ও ৬৫০০mAh ব্যাটারির চমক, দাম কত? ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন সিলেবাস ২০২৬: স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: ফেব্রুয়ারিতে শুরুর আভাস, আসছে ১৯তম নিবন্ধন

বিকাশ সেভিংস স্কিম: How to Open bKash DPS Savings Scheme

বিকাশ সেভিংস স্কিম: মাসে ৫০০ টাকা জমিয়ে ব্যাংকের মতো ডিপিএস করার নিয়ম

আর এম উজ্জল
  • আপডেট সময় : ১২:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

বিকাশ সেভিংস স্কিম: বিকাশ সেভিংস স্কিম বর্তমানে স্বল্প আয়ের মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য টাকা জমানোর এক নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা সময় ছিল যখন ডিপিএস (DPS) বা সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে ব্যাংকের লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হতো, নানা ফর্ম পূরণ করতে হতো এবং ছবি সত্যায়িত করার ঝামেলা ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে বিকাশ এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে।

এখন আপনি ঘরে বসেই আপনার বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের স্বনামধন্য ব্যাংক (যেমন: সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক) এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (যেমন: IDLC) এর সাথে ডিপিএস খুলতে পারেন। মাসে মাত্র ৫০০ টাকা জমিয়েও নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে আপনি ভালো মুনাফা বা লাভ পেতে পারেন। আজকের গাইডে আমরা দেখব কীভাবে অ্যাপ থেকে এই স্কিম চালু করবেন এবং মেয়াদ শেষে কত টাকা পাবেন।

বিকাশ সেভিংস স্কিম আসলে কী?

এটি মূলত একটি ডিজিটাল ডিপিএস সেবা। এখানে বিকাশ নিজে কোনো ব্যাংক নয়, বরং তারা মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। আপনি যখন বিকাশ ডিপিএস (Short-Tail Keyword) খোলেন, তখন আপনার টাকাটি মূলত আইডিএলসি (IDLC) বা মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে জমা হয়। মেয়াদ শেষে আসল টাকা এবং লভ্যাংশ সরাসরি আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টে চলে আসে।

এই স্কিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনাকে প্রতি মাসে ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিতে হবে না। নির্দিষ্ট তারিখে আপনার বিকাশ ব্যালেন্স থেকে অটোমেটিক টাকা কেটে নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: WiFi স্পিড বাড়ানোর উপায়: রাউটারের সেটিংসে ছোট কিছু পরিবর্তন করে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর ৫টি টিপস।

ডিপিএস খোলার যোগ্যতা ও নিয়ম

বিকাশ অ্যাপ থেকে সেভিংস স্কিম খোলার জন্য আপনার কিছু যোগ্যতা থাকতে হবে:

১. আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই সচল হতে হবে এবং আপনার নিজের এনআইডি দিয়ে খোলা থাকতে হবে।

২. অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকতে হবে।

৩. নমিনির এনআইডি নম্বর এবং জন্ম তারিখ প্রয়োজন হবে।

অ্যাপ থেকে স্কিম খোলার ধাপসমূহ:

ধাপ ১: বিকাশ অ্যাপে লগইন করে হোম স্ক্রিন থেকে “সেভিংস” (Savings) আইকনে ট্যাপ করুন।

ধাপ ২: “নতুন সেভিংস স্কিম খুলুন” অপশনে ট্যাপ করুন। এরপর আপনি কত বছরের জন্য জমাতে চান (মেয়াদ) এবং জমার ধরণ (মাসিক) নির্বাচন করুন।

ধাপ ৩: মাসিক জমার পরিমাণ সিলেক্ট করুন। বিকাশ বর্তমানে ৫০০, ১০০০, ২০০০ এবং ৩০০০ টাকার স্কিম অফার করছে।

ধাপ ৪: এরপর আপনি বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও সুদের হার (Interest Rate) দেখতে পাবেন। যেমন—IDLC হয়তো ৯.৫% দিচ্ছে, আবার ঢাকা ব্যাংক ৯% দিচ্ছে। যার অফার আপনার ভালো লাগবে, সেটি সিলেক্ট করুন।

ধাপ ৫: নমিনির তথ্য দিন এবং পিন নম্বর দিয়ে নিশ্চিত করুন। ব্যাস, আপনার ডিপিএস চালু হয়ে গেল!

লাভের পরিমাণ কত? (Profit Calculation)

বিকাশ ডিপিএস লাভ কত (Long-Tail Keyword)—এটি সবার সাধারণ প্রশ্ন। লাভের পরিমাণ নির্ভর করে আপনি কোন ব্যাংক সিলেক্ট করছেন তার ওপর। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য রেট অনুযায়ী একটি ধারণা দেওয়া হলো:

মাসিক জমা মেয়াদ সম্ভাব্য মোট জমা আনুমানিক লাভসহ ফেরত*
৫০০ টাকা ২ বছর ১২,০০০ টাকা ১২,৮০০ – ১৩,০০০ টাকা
১,০০০ টাকা ৩ বছর ৩৬,০০০ টাকা ৪০,৫০০ – ৪১,০০০ টাকা
২,০০০ টাকা ৪ বছর ৯৬,০০০ টাকা ১,১৫,০০০+ টাকা

*বি:দ্র: এই মুনাফা সরকারি ভ্যাট ও ট্যাক্স কাটার পর কম-বেশি হতে পারে এবং এটি ব্যাংকের পলিসির ওপর নির্ভরশীল।

টাকা জমা এবং উত্তোলনের নিয়ম

সেভিংস স্কিম চালু করার পর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে বিকাশ অটোমেটিক টাকা কেটে নেবে। তাই ওই তারিখের আগে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা রাখা জরুরি। আপনি চাইলে অ্যাকাউন্টে টাকা রাখার পর অ্যাপ থেকে ম্যানুয়ালিও কিস্তি জমা দিতে পারেন।

মেয়াদ পূর্ণ হলে: আপনার ডিপিএস-এর মেয়াদ যেদিন শেষ হবে, তার পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যেই আসল টাকা এবং মুনাফা সহ পুরো অর্থ আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টে অটোমেটিক চলে আসবে। এর জন্য ব্যাংকে যাওয়ার বা কোনো আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

মাঝপথে টাকা তোলা (Encashment): জরুরি প্রয়োজনে আপনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ডিপিএস ভাঙতে পারেন। সেক্ষেত্রে অ্যাপের ‘সেভিংস’ অপশন থেকে “বাতিল করুন” বা Cancel অপশনে যেতে হবে। তবে মনে রাখবেন, ৩ মাসের আগে ভাঙলে কোনো মুনাফা পাওয়া যায় না। আর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে ভাঙলে ব্যাংক নির্ধারিত হারে সামান্য কিছু মুনাফা পাওয়া যেতে পারে, অথবা শুধু আসল টাকা ফেরত পাবেন।

সুবিধা ও অসুবিধা

যেকোনো আর্থিক সিদ্ধান্তের আগে এর ভালো-মন্দ দিক বিবেচনা করা উচিত।

সুবিধা:

  • ব্যাংকে যাওয়ার ঝামেলা নেই, সম্পূর্ণ পেপারলেস।
  • স্বল্প আয়ের মানুষ মাত্র ৫০০ টাকা দিয়েই সঞ্চয় শুরু করতে পারেন।
  • টাকা জমানোর অভ্যাস গড়ে ওঠে।
  • মেয়াদ শেষে টাকা সরাসরি মোবাইলে চলে আসে।

অসুবিধা:

  • বড় অংকের ডিপিএস (যেমন মাসে ১০,০০০ টাকা) করার সুযোগ নেই।
  • ব্যাংকের তুলনায় সুদের হার সামান্য কম হতে পারে।
  • কিস্তি মিস করলে জরিমানা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কিস্তি মিস হলে কী হবে?

কোনো মাসে যদি নির্দিষ্ট তারিখে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকে, তবে বিকাশ পরবর্তী কয়েকদিন চেষ্টা করবে টাকা কাটার জন্য। পরপর ৩ মাস যদি কিস্তি দিতে ব্যর্থ হন, তবে আপনার সেভিংস স্কিমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং ওই পর্যন্ত জমানো টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে ফেরত আসবে (মুনাফা ছাড়া)। তাই মোবাইলে ক্যালেন্ডার রিমাইন্ডার দিয়ে রাখা ভালো।

আরও পড়ুন: বিকাশ পিন ভুলে গেছেন? অ্যাপ ও *247# ডায়াল করে পিন রিসেট করার নিয়ম

ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয়ের কোনো বিকল্প নেই। বিকাশ সেভিংস স্কিম প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সঞ্চয়কে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। আপনি যদি স্টুডেন্ট হন বা ছোট চাকরি করেন, তবে আজ থেকেই মাসে ৫০০ বা ১০০০ টাকা করে জমানো শুরু করুন। কয়েক বছর পর এই ছোট সঞ্চয়ই আপনার বড় কোনো প্রয়োজনে বা বিপদের বন্ধু হয়ে দাঁড়াবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. আমি কি একাধিক সেভিংস স্কিম খুলতে পারব? হ্যাঁ, আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী একাধিক স্কিম (যেমন: একটি ৫০০ টাকার, একটি ২০০০ টাকার) একই সাথে চালাতে পারবেন।

২. নমিনি কি পরিবর্তন করা যায়? স্কিম চালু করার পর সাধারণত অ্যাপ থেকে নমিনি পরিবর্তন করা যায় না। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কাস্টমার কেয়ারের সহায়তা নিয়ে এটি করা যেতে পারে।

৩. সেভিংসের টাকা কি ক্যাশ আউট করতে চার্জ লাগে? সেভিংস স্কিমের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর যে টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে আসবে, তা ক্যাশ আউট করতে বিকাশের সাধারণ ক্যাশ আউট চার্জ প্রযোজ্য হবে। তবে কিছু কিছু সময় বিকাশ বিশেষ অফারে ফ্রি ক্যাশ আউটের সুবিধা দেয়।

৪. আইডিএলসি (IDLC) নাকি সিটি ব্যাংক—কোনটি ভালো? দুটিই অত্যন্ত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। অ্যাপে স্কিম খোলার সময় দেখবেন কে বেশি ইন্টারেস্ট রেট দিচ্ছে। যার রেট বেশি, তাকেই বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. আমার বিকাশ অ্যাকাউন্ট হারিয়ে গেলে জমানো টাকার কী হবে? ভয় নেই। আপনার সিম এবং এনআইডি ঠিক থাকলে সিম রিপ্লেস করে নতুন করে বিকাশ অ্যাপে লগইন করলেই আপনি আপনার সেভিংস স্কিম দেখতে পাবেন। টাকা হারাবে না।

তথ্যসূত্র: https://www.bkash.com/products-services/savings

নিউজটি শেয়ার করুন

3 thoughts on “বিকাশ সেভিংস স্কিম: মাসে ৫০০ টাকা জমিয়ে ব্যাংকের মতো ডিপিএস করার নিয়ম

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আর এম উজ্জল

আর এম উজ্জল একজন অভিজ্ঞ আইটি প্রফেশনাল, ডিজিটাল মেন্টর এবং Dokkho Lab-এর প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘ ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি টেকনোলজি, ফ্রিল্যান্সিং এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে লেখালেখি ও গবেষণা করছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো জটিল টেকনিক্যাল বিষয়গুলোকে সহজ বাংলায় বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা। তার প্রতিটি লেখা পাঠককে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিকাশ সেভিংস স্কিম: How to Open bKash DPS Savings Scheme

বিকাশ সেভিংস স্কিম: মাসে ৫০০ টাকা জমিয়ে ব্যাংকের মতো ডিপিএস করার নিয়ম

আপডেট সময় : ১২:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বিকাশ সেভিংস স্কিম: বিকাশ সেভিংস স্কিম বর্তমানে স্বল্প আয়ের মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য টাকা জমানোর এক নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা সময় ছিল যখন ডিপিএস (DPS) বা সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে ব্যাংকের লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হতো, নানা ফর্ম পূরণ করতে হতো এবং ছবি সত্যায়িত করার ঝামেলা ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে বিকাশ এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে।

এখন আপনি ঘরে বসেই আপনার বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের স্বনামধন্য ব্যাংক (যেমন: সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক) এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (যেমন: IDLC) এর সাথে ডিপিএস খুলতে পারেন। মাসে মাত্র ৫০০ টাকা জমিয়েও নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে আপনি ভালো মুনাফা বা লাভ পেতে পারেন। আজকের গাইডে আমরা দেখব কীভাবে অ্যাপ থেকে এই স্কিম চালু করবেন এবং মেয়াদ শেষে কত টাকা পাবেন।

বিকাশ সেভিংস স্কিম আসলে কী?

এটি মূলত একটি ডিজিটাল ডিপিএস সেবা। এখানে বিকাশ নিজে কোনো ব্যাংক নয়, বরং তারা মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। আপনি যখন বিকাশ ডিপিএস (Short-Tail Keyword) খোলেন, তখন আপনার টাকাটি মূলত আইডিএলসি (IDLC) বা মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে জমা হয়। মেয়াদ শেষে আসল টাকা এবং লভ্যাংশ সরাসরি আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টে চলে আসে।

এই স্কিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনাকে প্রতি মাসে ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিতে হবে না। নির্দিষ্ট তারিখে আপনার বিকাশ ব্যালেন্স থেকে অটোমেটিক টাকা কেটে নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: WiFi স্পিড বাড়ানোর উপায়: রাউটারের সেটিংসে ছোট কিছু পরিবর্তন করে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর ৫টি টিপস।

ডিপিএস খোলার যোগ্যতা ও নিয়ম

বিকাশ অ্যাপ থেকে সেভিংস স্কিম খোলার জন্য আপনার কিছু যোগ্যতা থাকতে হবে:

১. আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই সচল হতে হবে এবং আপনার নিজের এনআইডি দিয়ে খোলা থাকতে হবে।

২. অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকতে হবে।

৩. নমিনির এনআইডি নম্বর এবং জন্ম তারিখ প্রয়োজন হবে।

অ্যাপ থেকে স্কিম খোলার ধাপসমূহ:

ধাপ ১: বিকাশ অ্যাপে লগইন করে হোম স্ক্রিন থেকে “সেভিংস” (Savings) আইকনে ট্যাপ করুন।

ধাপ ২: “নতুন সেভিংস স্কিম খুলুন” অপশনে ট্যাপ করুন। এরপর আপনি কত বছরের জন্য জমাতে চান (মেয়াদ) এবং জমার ধরণ (মাসিক) নির্বাচন করুন।

ধাপ ৩: মাসিক জমার পরিমাণ সিলেক্ট করুন। বিকাশ বর্তমানে ৫০০, ১০০০, ২০০০ এবং ৩০০০ টাকার স্কিম অফার করছে।

ধাপ ৪: এরপর আপনি বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও সুদের হার (Interest Rate) দেখতে পাবেন। যেমন—IDLC হয়তো ৯.৫% দিচ্ছে, আবার ঢাকা ব্যাংক ৯% দিচ্ছে। যার অফার আপনার ভালো লাগবে, সেটি সিলেক্ট করুন।

ধাপ ৫: নমিনির তথ্য দিন এবং পিন নম্বর দিয়ে নিশ্চিত করুন। ব্যাস, আপনার ডিপিএস চালু হয়ে গেল!

লাভের পরিমাণ কত? (Profit Calculation)

বিকাশ ডিপিএস লাভ কত (Long-Tail Keyword)—এটি সবার সাধারণ প্রশ্ন। লাভের পরিমাণ নির্ভর করে আপনি কোন ব্যাংক সিলেক্ট করছেন তার ওপর। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য রেট অনুযায়ী একটি ধারণা দেওয়া হলো:

মাসিক জমা মেয়াদ সম্ভাব্য মোট জমা আনুমানিক লাভসহ ফেরত*
৫০০ টাকা ২ বছর ১২,০০০ টাকা ১২,৮০০ – ১৩,০০০ টাকা
১,০০০ টাকা ৩ বছর ৩৬,০০০ টাকা ৪০,৫০০ – ৪১,০০০ টাকা
২,০০০ টাকা ৪ বছর ৯৬,০০০ টাকা ১,১৫,০০০+ টাকা

*বি:দ্র: এই মুনাফা সরকারি ভ্যাট ও ট্যাক্স কাটার পর কম-বেশি হতে পারে এবং এটি ব্যাংকের পলিসির ওপর নির্ভরশীল।

টাকা জমা এবং উত্তোলনের নিয়ম

সেভিংস স্কিম চালু করার পর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে বিকাশ অটোমেটিক টাকা কেটে নেবে। তাই ওই তারিখের আগে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা রাখা জরুরি। আপনি চাইলে অ্যাকাউন্টে টাকা রাখার পর অ্যাপ থেকে ম্যানুয়ালিও কিস্তি জমা দিতে পারেন।

মেয়াদ পূর্ণ হলে: আপনার ডিপিএস-এর মেয়াদ যেদিন শেষ হবে, তার পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যেই আসল টাকা এবং মুনাফা সহ পুরো অর্থ আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টে অটোমেটিক চলে আসবে। এর জন্য ব্যাংকে যাওয়ার বা কোনো আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

মাঝপথে টাকা তোলা (Encashment): জরুরি প্রয়োজনে আপনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ডিপিএস ভাঙতে পারেন। সেক্ষেত্রে অ্যাপের ‘সেভিংস’ অপশন থেকে “বাতিল করুন” বা Cancel অপশনে যেতে হবে। তবে মনে রাখবেন, ৩ মাসের আগে ভাঙলে কোনো মুনাফা পাওয়া যায় না। আর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে ভাঙলে ব্যাংক নির্ধারিত হারে সামান্য কিছু মুনাফা পাওয়া যেতে পারে, অথবা শুধু আসল টাকা ফেরত পাবেন।

সুবিধা ও অসুবিধা

যেকোনো আর্থিক সিদ্ধান্তের আগে এর ভালো-মন্দ দিক বিবেচনা করা উচিত।

সুবিধা:

  • ব্যাংকে যাওয়ার ঝামেলা নেই, সম্পূর্ণ পেপারলেস।
  • স্বল্প আয়ের মানুষ মাত্র ৫০০ টাকা দিয়েই সঞ্চয় শুরু করতে পারেন।
  • টাকা জমানোর অভ্যাস গড়ে ওঠে।
  • মেয়াদ শেষে টাকা সরাসরি মোবাইলে চলে আসে।

অসুবিধা:

  • বড় অংকের ডিপিএস (যেমন মাসে ১০,০০০ টাকা) করার সুযোগ নেই।
  • ব্যাংকের তুলনায় সুদের হার সামান্য কম হতে পারে।
  • কিস্তি মিস করলে জরিমানা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কিস্তি মিস হলে কী হবে?

কোনো মাসে যদি নির্দিষ্ট তারিখে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকে, তবে বিকাশ পরবর্তী কয়েকদিন চেষ্টা করবে টাকা কাটার জন্য। পরপর ৩ মাস যদি কিস্তি দিতে ব্যর্থ হন, তবে আপনার সেভিংস স্কিমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং ওই পর্যন্ত জমানো টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে ফেরত আসবে (মুনাফা ছাড়া)। তাই মোবাইলে ক্যালেন্ডার রিমাইন্ডার দিয়ে রাখা ভালো।

আরও পড়ুন: বিকাশ পিন ভুলে গেছেন? অ্যাপ ও *247# ডায়াল করে পিন রিসেট করার নিয়ম

ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয়ের কোনো বিকল্প নেই। বিকাশ সেভিংস স্কিম প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সঞ্চয়কে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। আপনি যদি স্টুডেন্ট হন বা ছোট চাকরি করেন, তবে আজ থেকেই মাসে ৫০০ বা ১০০০ টাকা করে জমানো শুরু করুন। কয়েক বছর পর এই ছোট সঞ্চয়ই আপনার বড় কোনো প্রয়োজনে বা বিপদের বন্ধু হয়ে দাঁড়াবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. আমি কি একাধিক সেভিংস স্কিম খুলতে পারব? হ্যাঁ, আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী একাধিক স্কিম (যেমন: একটি ৫০০ টাকার, একটি ২০০০ টাকার) একই সাথে চালাতে পারবেন।

২. নমিনি কি পরিবর্তন করা যায়? স্কিম চালু করার পর সাধারণত অ্যাপ থেকে নমিনি পরিবর্তন করা যায় না। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কাস্টমার কেয়ারের সহায়তা নিয়ে এটি করা যেতে পারে।

৩. সেভিংসের টাকা কি ক্যাশ আউট করতে চার্জ লাগে? সেভিংস স্কিমের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর যে টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে আসবে, তা ক্যাশ আউট করতে বিকাশের সাধারণ ক্যাশ আউট চার্জ প্রযোজ্য হবে। তবে কিছু কিছু সময় বিকাশ বিশেষ অফারে ফ্রি ক্যাশ আউটের সুবিধা দেয়।

৪. আইডিএলসি (IDLC) নাকি সিটি ব্যাংক—কোনটি ভালো? দুটিই অত্যন্ত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। অ্যাপে স্কিম খোলার সময় দেখবেন কে বেশি ইন্টারেস্ট রেট দিচ্ছে। যার রেট বেশি, তাকেই বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. আমার বিকাশ অ্যাকাউন্ট হারিয়ে গেলে জমানো টাকার কী হবে? ভয় নেই। আপনার সিম এবং এনআইডি ঠিক থাকলে সিম রিপ্লেস করে নতুন করে বিকাশ অ্যাপে লগইন করলেই আপনি আপনার সেভিংস স্কিম দেখতে পাবেন। টাকা হারাবে না।

তথ্যসূত্র: https://www.bkash.com/products-services/savings