ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
চাকরির খবর পত্রিকা ৩০ জানুয়ারি ২০২৬: ডাউনলোড করুন আজকের HD পিডিএফ (PDF) বিকেএসপিতে নিয়োগ: শিক্ষক ও প্রকৌশলীসহ ৪ ক্যাটাগরিতে চাকরি, আবেদন ফি ২০০ টাকা ওয়ালটনে ‘টেরিটরি সেলস এক্সিকিউটিভ’ পদে চাকরির সুযোগ ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজে চাকরি: ড্রাইভার পদে বিশাল নিয়োগ ২০ হাজারে এআই ফিচার! দেশে এল টেকনোর ‘Megapad SE’, জানুন বিস্তারিত শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ালটন ও শিখো’র ‘এডুট্যাব’: দাম ১৭,৫০০ টাকা, জানুন বিস্তারিত ফিচার ওপেনএআইয়ের প্রথম হার্ডওয়্যার: জনি আইভের ডিজাইনে আসছে চ্যাটজিপিটি ইয়ারবাডস! দেশে এল ইনফিনিক্স নোট এজ: কার্ভড ডিসপ্লে ও ৬৫০০mAh ব্যাটারির চমক, দাম কত? ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন সিলেবাস ২০২৬: স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: ফেব্রুয়ারিতে শুরুর আভাস, আসছে ১৯তম নিবন্ধন

WiFi স্পিড বাড়ানোর উপায়: রাউটার সেটিংসে ৫টি পরিবর্তনে ইন্টারনেটের গতি দ্বিগুণ করার টিপস - দক্ষ ল্যাব

WiFi স্পিড বাড়ানোর উপায়: রাউটারের সেটিংসে ছোট কিছু পরিবর্তন করে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর ৫টি টিপস।

আর এম উজ্জল
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৬:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

WiFi স্পিড বাড়ানোর উপায় খোঁজা বর্তমান সময়ে গুগল সার্চের অন্যতম জনপ্রিয় বিষয়। আপনি হয়তো দামী ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনেছেন, ভালো মানের রাউটারও ব্যবহার করছেন, তবুও ইউটিউবে ভিডিও দেখতে গেলে চাকা ঘোরে বা গেম খেলার সময় পিং (Ping) বেড়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর জন্য দায়ী আপনার ইন্টারনেট প্রোভাইডার (ISP) নয়, বরং আপনার রাউটারের ভুল কনফিগারেশন বা সেটিংস।

অনেকেই মনে করেন ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে হলে রাউটার পরিবর্তন করা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাউটারের অ্যাডমিন প্যানেলে ঢুকে সামান্য কিছু পরিবর্তন করলেই আপনি বর্তমান কানেকশন থেকেই সর্বোচ্চ গতি পেতে পারেন। আজকের এই গাইডে আমরা হার্ডওয়্যার পরিবর্তন না করে শুধুমাত্র সেটিংস অপ্টিমাইজ করে ওয়াইফাই স্পিড বাড়ানোর ৫টি পরীক্ষিত কৌশল নিয়ে আলোচনা করব।

১. সঠিক চ্যানেল নির্বাচন

ওয়াইফাই সিগন্যাল বাতাসের মাধ্যমে চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট কিছু রাস্তা বা ‘চ্যানেল’ ব্যবহার করে। আপনার রাউটার যদি ২.৪ গিগাহার্জ (2.4GHz) ব্যান্ডের হয়, তবে এটি সাধারণত ১ থেকে ১১টি চ্যানেল ব্যবহার করে। সমস্যা হলো, আপনার প্রতিবেশীদের রাউটারগুলোও একই চ্যানেল ব্যবহার করছে। ফলে সিগন্যালের মধ্যে ট্রাফিক জ্যাম বা Interference তৈরি হয়, যা আপনার ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়।

এই জ্যাম এড়াতে আপনাকে রাউটারের সেটিংসে ঢুকে চ্যানেল পরিবর্তন করতে হবে। ব্রাউজারে রাউটারের আইপি (সাধারণত 192.168.0.1) লিখে লগইন করুন। Wireless Settings থেকে Channel অপশনে যান। সেখানে ‘Auto’ দেওয়া থাকলে পরিবর্তন করে 1, 6 অথবা 11-এর মধ্যে যেকোনো একটি সিলেক্ট করুন। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এই তিনটি চ্যানেল একে অপরের সাথে সংঘর্ষ করে না (Non-overlapping), ফলে আপনি ক্লিয়ার সিগন্যাল পাবেন।

২. ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড পরিবর্তন

2.4GHz vs 5GHz: আপনার রাউটারটি যদি ‘ডুয়েল ব্যান্ড’ (Dual Band) হয়, তবে আপনি স্পিড বাড়ানোর এক বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করছেন। ডুয়েল ব্যান্ড রাউটারে দুটি ফ্রিকোয়েন্সি থাকে: 2.4GHz এবং 5GHz

২.৪ গিগাহার্জ অনেক দূর পর্যন্ত সিগন্যাল পাঠাতে পারে, কিন্তু এর ডাটা ট্রান্সফার রেট কম এবং এতে নয়েজ বেশি থাকে। অন্যদিকে, ৫ গিগাহার্জ (5GHz) ব্যান্ডের রেঞ্জ বা কভারেজ একটু কম হলেও এর স্পিড অনেক বেশি এবং এতে বাফারিং হয় না।

আপনি যদি রাউটারের কাছাকাছি থেকে ভারী কাজ (যেমন: ভিডিও স্ট্রিমিং বা গেমিং) করেন, তবে আপনার ডিভাইসে ৫ গিগাহার্জের ওয়াইফাই কানেক্ট করুন। সেটিংসে গিয়ে দেখুন ‘5GHz Wireless’ অপশনটি এনাবল বা চালু করা আছে কি না। এটি আপনার স্পিড দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।

৩. রাউটার রিবুট শিডিউল

Auto Reboot: আমরা অনেকেই মাসের পর মাস রাউটার অন করে রাখি। টানা চলার ফলে রাউটারের মেমোরিতে ক্যাশ ফাইল জমা হয় এবং প্রসেসর গরম হয়ে যায়, যা পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে রাউটার বন্ধ করে চালু করলে বা রিবুট দিলে এটি আবার ফ্রেশ হয়ে কাজ শুরু করে।

আধুনিক সব রাউটারেই Auto Reboot বা Reboot Schedule নামে একটি ফিচার থাকে। সেটিংসের System Tools অপশনে গিয়ে এটি খুঁজে পাবেন। সেখানে এমন একটি সময় সেট করে দিন যখন আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না (যেমন: রাত ৩টা বা ভোর ৪টা)। প্রতিদিন বা সপ্তাহে একবার অটোমেটিক রিবুট হলে আপনার কানেকশন সবসময় স্টেবল থাকবে।

৪. অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারকারী ব্লক করা

Security & DHCP Check: আপনার অজান্তেই হয়তো পাশের ফ্ল্যাটের কেউ আপনার ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড জেনে গেছে এবং টরেন্ট দিয়ে বড় ফাইল নামাচ্ছে। এমনটি হলে আপনি কখনোই পূর্ণ গতি পাবেন না।

রাউটারের সেটিংসে ঢুকে DHCP Client List বা Connected Devices অপশনটি চেক করুন। এখানে বর্তমানে কে কে কানেক্টেড আছে তা দেখা যায়। যদি অপরিচিত কোনো মোবাইল বা ল্যাপটপ দেখতে পান, তবে সাথে সাথে ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দিন। আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে চাইলে MAC Filtering ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ডিভাইস ছাড়া বাকি সবাইকে ব্লক করে দিতে পারেন।

৫. QoS (Quality of Service) সেটিংস চালু করা

বাসায় যদি একসাথে অনেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তবে QoS বা কোয়ালিটি অফ সার্ভিস ফিচারটি আপনার জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। ধরুন আপনি অনলাইনে জরুরি মিটিং করছেন বা গেম খেলছেন, একই সময়ে অন্য কেউ ইউটিউবে 4K ভিডিও দেখছে। স্বাভাবিকভাবেই আপনার মিটিং আটকে যাবে।

QoS সেটিংসের মাধ্যমে আপনি আপনার নিজের কম্পিউটার বা মোবাইলকে High Priority বা অগ্রাধিকার দিতে পারেন। রাউটারের সেটিংসে Bandwidth Control বা QoS অপশনে যান। সেখানে আপনার ডিভাইসের আইপি বা ম্যাক অ্যাড্রেস দিয়ে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি সেট করে দিন। এর ফলে অন্য ইউজাররা যা-ই করুক না কেন, রাউটার সবসময় আপনার ডিভাইসে সবার আগে ব্যান্ডউইথ বা স্পিড সরবরাহ করবে।

রাউটার ফার্মওয়্যার আপডেট

রাউটার প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো নিয়মিত তাদের সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার আপডেট করে। এই আপডেটগুলোতে স্পিড অপ্টিমাইজেশন এবং সিকিউরিটি প্যাচ থাকে। অনেক পুরনো ফার্মওয়্যার ব্যবহারের কারণেও স্পিড কমে যেতে পারে। তাই মাসে অন্তত একবার Firmware Upgrade অপশনটি চেক করা উচিত।

ইন্টারনেটের গতি শুধু প্যাকেজের ওপর নির্ভর করে না, এটি কীভাবে ম্যানেজ করা হচ্ছে তার ওপরও নির্ভর করে। নতুন রাউটার বা দামী প্যাকেজ কেনার আগে উপরে উল্লেখিত WiFi স্পিড বাড়ানোর উপায়-গুলো প্রয়োগ করে দেখুন। বিশেষ করে চ্যানেল পরিবর্তন এবং ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড ব্যবহার করলে আপনি তাৎক্ষণিক পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই ডিজিটাল জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ইন্টারনেট স্পিড চেক করার সঠিক নিয়ম কী? স্পিড চেক করার সময় অন্য সব ডিভাইস ডিসকানেক্ট করে নেওয়া উচিত এবং রাউটারের কাছাকাছি থাকা উচিত। Speedtest.net বা Fast.com ব্যবহার করে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়।

২. রাউটার কোথায় রাখলে ভালো স্পিড পাওয়া যায়? রাউটার সবসময় ঘরের মাঝখানে এবং কিছুটা উঁচুতে (যেমন টেবিল বা শেলফের ওপর) রাখা উচিত। দেয়াল, জানালার গ্রিল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের (যেমন মাইক্রোওয়েভ ওভেন) পাশে রাখলে সিগন্যাল বাধা পায়।

৩. ওয়াইফাই এক্সটেন্ডার (WiFi Extender) কি স্পিড কমিয়ে দেয়? হ্যাঁ, এক্সটেন্ডার বা রিপিটার সিগন্যাল রেঞ্জ বাড়ালেও মূল স্পিড প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেয়। স্পিড ঠিক রেখে রেঞ্জ বাড়াতে চাইলে ‘মেশ ওয়াইফাই’ (Mesh WiFi) সিস্টেম ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।

৪. অ্যান্টেনা বেশি হলে কি স্পিড বেশি হয়? সবসময় না। অ্যান্টেনার সংখ্যা মূলত কভারেজ এরিয়া এবং মাল্টিপল ডিভাইস হ্যান্ডেল করার ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। স্পিড মূলত রাউটারের প্রসেসর এবং প্রযুক্তির (WiFi 5 vs WiFi 6) ওপর নির্ভর করে।

৫. ৫ গিগাহার্জ সিগন্যাল কেন দেয়াল ভেদ করতে পারে না? ৫ গিগাহার্জের ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েভ বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব ছোট। তাই এটি দেয়াল বা আসবাবপত্রের মতো কঠিন বাধা সহজে ভেদ করতে পারে না। অন্যদিকে ২.৪ গিগাহার্জের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বড় হওয়ায় এটি বাধা টপকে দূরে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

3 thoughts on “WiFi স্পিড বাড়ানোর উপায়: রাউটারের সেটিংসে ছোট কিছু পরিবর্তন করে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর ৫টি টিপস।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dokkho Lab-এর অভিজ্ঞ গবেষক ও এডিটোরিয়াল টিম সর্বদা নির্ভুল তথ্য প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সরকারি-বেসরকারি চাকরির খবর, শিক্ষা এবং প্রযুক্তির সর্বশেষ আপডেট বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে সংগ্রহ ও যাচাই করে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করি। আমাদের লক্ষ্য—সঠিক তথ্যে আপনাকে এগিয়ে রাখা।

WiFi স্পিড বাড়ানোর উপায়: রাউটার সেটিংসে ৫টি পরিবর্তনে ইন্টারনেটের গতি দ্বিগুণ করার টিপস - দক্ষ ল্যাব

WiFi স্পিড বাড়ানোর উপায়: রাউটারের সেটিংসে ছোট কিছু পরিবর্তন করে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর ৫টি টিপস।

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

WiFi স্পিড বাড়ানোর উপায় খোঁজা বর্তমান সময়ে গুগল সার্চের অন্যতম জনপ্রিয় বিষয়। আপনি হয়তো দামী ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনেছেন, ভালো মানের রাউটারও ব্যবহার করছেন, তবুও ইউটিউবে ভিডিও দেখতে গেলে চাকা ঘোরে বা গেম খেলার সময় পিং (Ping) বেড়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর জন্য দায়ী আপনার ইন্টারনেট প্রোভাইডার (ISP) নয়, বরং আপনার রাউটারের ভুল কনফিগারেশন বা সেটিংস।

অনেকেই মনে করেন ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে হলে রাউটার পরিবর্তন করা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাউটারের অ্যাডমিন প্যানেলে ঢুকে সামান্য কিছু পরিবর্তন করলেই আপনি বর্তমান কানেকশন থেকেই সর্বোচ্চ গতি পেতে পারেন। আজকের এই গাইডে আমরা হার্ডওয়্যার পরিবর্তন না করে শুধুমাত্র সেটিংস অপ্টিমাইজ করে ওয়াইফাই স্পিড বাড়ানোর ৫টি পরীক্ষিত কৌশল নিয়ে আলোচনা করব।

১. সঠিক চ্যানেল নির্বাচন

ওয়াইফাই সিগন্যাল বাতাসের মাধ্যমে চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট কিছু রাস্তা বা ‘চ্যানেল’ ব্যবহার করে। আপনার রাউটার যদি ২.৪ গিগাহার্জ (2.4GHz) ব্যান্ডের হয়, তবে এটি সাধারণত ১ থেকে ১১টি চ্যানেল ব্যবহার করে। সমস্যা হলো, আপনার প্রতিবেশীদের রাউটারগুলোও একই চ্যানেল ব্যবহার করছে। ফলে সিগন্যালের মধ্যে ট্রাফিক জ্যাম বা Interference তৈরি হয়, যা আপনার ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়।

এই জ্যাম এড়াতে আপনাকে রাউটারের সেটিংসে ঢুকে চ্যানেল পরিবর্তন করতে হবে। ব্রাউজারে রাউটারের আইপি (সাধারণত 192.168.0.1) লিখে লগইন করুন। Wireless Settings থেকে Channel অপশনে যান। সেখানে ‘Auto’ দেওয়া থাকলে পরিবর্তন করে 1, 6 অথবা 11-এর মধ্যে যেকোনো একটি সিলেক্ট করুন। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এই তিনটি চ্যানেল একে অপরের সাথে সংঘর্ষ করে না (Non-overlapping), ফলে আপনি ক্লিয়ার সিগন্যাল পাবেন।

২. ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড পরিবর্তন

2.4GHz vs 5GHz: আপনার রাউটারটি যদি ‘ডুয়েল ব্যান্ড’ (Dual Band) হয়, তবে আপনি স্পিড বাড়ানোর এক বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করছেন। ডুয়েল ব্যান্ড রাউটারে দুটি ফ্রিকোয়েন্সি থাকে: 2.4GHz এবং 5GHz

২.৪ গিগাহার্জ অনেক দূর পর্যন্ত সিগন্যাল পাঠাতে পারে, কিন্তু এর ডাটা ট্রান্সফার রেট কম এবং এতে নয়েজ বেশি থাকে। অন্যদিকে, ৫ গিগাহার্জ (5GHz) ব্যান্ডের রেঞ্জ বা কভারেজ একটু কম হলেও এর স্পিড অনেক বেশি এবং এতে বাফারিং হয় না।

আপনি যদি রাউটারের কাছাকাছি থেকে ভারী কাজ (যেমন: ভিডিও স্ট্রিমিং বা গেমিং) করেন, তবে আপনার ডিভাইসে ৫ গিগাহার্জের ওয়াইফাই কানেক্ট করুন। সেটিংসে গিয়ে দেখুন ‘5GHz Wireless’ অপশনটি এনাবল বা চালু করা আছে কি না। এটি আপনার স্পিড দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।

৩. রাউটার রিবুট শিডিউল

Auto Reboot: আমরা অনেকেই মাসের পর মাস রাউটার অন করে রাখি। টানা চলার ফলে রাউটারের মেমোরিতে ক্যাশ ফাইল জমা হয় এবং প্রসেসর গরম হয়ে যায়, যা পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে রাউটার বন্ধ করে চালু করলে বা রিবুট দিলে এটি আবার ফ্রেশ হয়ে কাজ শুরু করে।

আধুনিক সব রাউটারেই Auto Reboot বা Reboot Schedule নামে একটি ফিচার থাকে। সেটিংসের System Tools অপশনে গিয়ে এটি খুঁজে পাবেন। সেখানে এমন একটি সময় সেট করে দিন যখন আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না (যেমন: রাত ৩টা বা ভোর ৪টা)। প্রতিদিন বা সপ্তাহে একবার অটোমেটিক রিবুট হলে আপনার কানেকশন সবসময় স্টেবল থাকবে।

৪. অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারকারী ব্লক করা

Security & DHCP Check: আপনার অজান্তেই হয়তো পাশের ফ্ল্যাটের কেউ আপনার ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড জেনে গেছে এবং টরেন্ট দিয়ে বড় ফাইল নামাচ্ছে। এমনটি হলে আপনি কখনোই পূর্ণ গতি পাবেন না।

রাউটারের সেটিংসে ঢুকে DHCP Client List বা Connected Devices অপশনটি চেক করুন। এখানে বর্তমানে কে কে কানেক্টেড আছে তা দেখা যায়। যদি অপরিচিত কোনো মোবাইল বা ল্যাপটপ দেখতে পান, তবে সাথে সাথে ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দিন। আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে চাইলে MAC Filtering ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ডিভাইস ছাড়া বাকি সবাইকে ব্লক করে দিতে পারেন।

৫. QoS (Quality of Service) সেটিংস চালু করা

বাসায় যদি একসাথে অনেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তবে QoS বা কোয়ালিটি অফ সার্ভিস ফিচারটি আপনার জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। ধরুন আপনি অনলাইনে জরুরি মিটিং করছেন বা গেম খেলছেন, একই সময়ে অন্য কেউ ইউটিউবে 4K ভিডিও দেখছে। স্বাভাবিকভাবেই আপনার মিটিং আটকে যাবে।

QoS সেটিংসের মাধ্যমে আপনি আপনার নিজের কম্পিউটার বা মোবাইলকে High Priority বা অগ্রাধিকার দিতে পারেন। রাউটারের সেটিংসে Bandwidth Control বা QoS অপশনে যান। সেখানে আপনার ডিভাইসের আইপি বা ম্যাক অ্যাড্রেস দিয়ে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি সেট করে দিন। এর ফলে অন্য ইউজাররা যা-ই করুক না কেন, রাউটার সবসময় আপনার ডিভাইসে সবার আগে ব্যান্ডউইথ বা স্পিড সরবরাহ করবে।

রাউটার ফার্মওয়্যার আপডেট

রাউটার প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো নিয়মিত তাদের সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার আপডেট করে। এই আপডেটগুলোতে স্পিড অপ্টিমাইজেশন এবং সিকিউরিটি প্যাচ থাকে। অনেক পুরনো ফার্মওয়্যার ব্যবহারের কারণেও স্পিড কমে যেতে পারে। তাই মাসে অন্তত একবার Firmware Upgrade অপশনটি চেক করা উচিত।

ইন্টারনেটের গতি শুধু প্যাকেজের ওপর নির্ভর করে না, এটি কীভাবে ম্যানেজ করা হচ্ছে তার ওপরও নির্ভর করে। নতুন রাউটার বা দামী প্যাকেজ কেনার আগে উপরে উল্লেখিত WiFi স্পিড বাড়ানোর উপায়-গুলো প্রয়োগ করে দেখুন। বিশেষ করে চ্যানেল পরিবর্তন এবং ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড ব্যবহার করলে আপনি তাৎক্ষণিক পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই ডিজিটাল জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ইন্টারনেট স্পিড চেক করার সঠিক নিয়ম কী? স্পিড চেক করার সময় অন্য সব ডিভাইস ডিসকানেক্ট করে নেওয়া উচিত এবং রাউটারের কাছাকাছি থাকা উচিত। Speedtest.net বা Fast.com ব্যবহার করে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায়।

২. রাউটার কোথায় রাখলে ভালো স্পিড পাওয়া যায়? রাউটার সবসময় ঘরের মাঝখানে এবং কিছুটা উঁচুতে (যেমন টেবিল বা শেলফের ওপর) রাখা উচিত। দেয়াল, জানালার গ্রিল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের (যেমন মাইক্রোওয়েভ ওভেন) পাশে রাখলে সিগন্যাল বাধা পায়।

৩. ওয়াইফাই এক্সটেন্ডার (WiFi Extender) কি স্পিড কমিয়ে দেয়? হ্যাঁ, এক্সটেন্ডার বা রিপিটার সিগন্যাল রেঞ্জ বাড়ালেও মূল স্পিড প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেয়। স্পিড ঠিক রেখে রেঞ্জ বাড়াতে চাইলে ‘মেশ ওয়াইফাই’ (Mesh WiFi) সিস্টেম ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।

৪. অ্যান্টেনা বেশি হলে কি স্পিড বেশি হয়? সবসময় না। অ্যান্টেনার সংখ্যা মূলত কভারেজ এরিয়া এবং মাল্টিপল ডিভাইস হ্যান্ডেল করার ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। স্পিড মূলত রাউটারের প্রসেসর এবং প্রযুক্তির (WiFi 5 vs WiFi 6) ওপর নির্ভর করে।

৫. ৫ গিগাহার্জ সিগন্যাল কেন দেয়াল ভেদ করতে পারে না? ৫ গিগাহার্জের ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েভ বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব ছোট। তাই এটি দেয়াল বা আসবাবপত্রের মতো কঠিন বাধা সহজে ভেদ করতে পারে না। অন্যদিকে ২.৪ গিগাহার্জের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বড় হওয়ায় এটি বাধা টপকে দূরে যেতে পারে।