অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত Infinix Note 60 Pro আমাদের রিভিউ ইউনিটে পৌঁছেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিশ্ববাজারে আসার পর থেকেই এর ডিজাইন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেকের মতে, এর প্রিমিয়াম মেটাল ও গ্লাস বডি অনেকটা আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে ডিজাইন ছাড়াও এর ভেতরে রয়েছে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার যা এই বাজেট সেগমেন্টে গেম চেঞ্জার হতে পারে। আপনি যদি একটি অল-রাউন্ডার ফোন খুঁজছেন, তবে Infinix Note 60 Pro Unboxing এবং এর ফিচারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকা প্রয়োজন।
Infinix Note 60 Pro Unboxing
ইনফিনিক্স এবার তাদের নোট সিরিজে বড় পরিবর্তন এনেছে। বক্সে থাকা এক্সেসরিজ থেকে শুরু করে হার্ট রেট সেন্সর পর্যন্ত—সবকিছুতেই রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তবে ফোনটি বেশ পিচ্ছিল (Slippery), তাই বক্সে থাকা বিশেষ ম্যাগসেফ কেসটি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক বলে মনে হয়েছে। চলুন আজকের হ্যান্ডস-অন রিভিউতে দেখে নিই ফোনটির আসল পারফরম্যান্স।
এই লেখায় যা জানবেন:
- বক্সের ভেতরে কী কী থাকছে এবং এক্সেসরিজের মান।
- Snapdragon 7s Gen 4 প্রসেসরের বাস্তব গেমিং অভিজ্ঞতা।
- ব্যাটারি সেলফ-হিলিং টেকনোলজি ও ৬৫০০mAh ব্যাটারির স্থায়িত্ব।
- অ্যাক্টিভ ম্যাট্রিক্স ডিসপ্লে এবং হার্ট রেট সেন্সরের ব্যবহার।
১. আনবক্সিং এবং প্রিমিয়াম এক্সেসরিজ
ইনফিনিক্স সাধারণত তাদের বক্সে অনেক কিছু দিয়ে থাকে, আর Note 60 Pro এর ব্যতিক্রম নয়। বক্স খুললেই আপনি পাচ্ছেন—একটি ইউএসবি কেবল, ৯৩ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার, ইউএসবি ইয়ারবাডস এবং একটি চমৎকার ম্যাগসেফ-এনাবলড কেস। বর্তমান যুগে যেখানে বড় কোম্পানিগুলো চার্জার সরিয়ে নিচ্ছে, সেখানে ইনফিনিক্সের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
ফোনটির বিল্ড কোয়ালিটি অত্যন্ত সলিড। মেটাল ফ্রেম এবং গ্লাস ব্যাক ফোনটিকে প্রিমিয়াম লুক দেয়। তবে ফোনটি হাতে ধরলে বেশ পিচ্ছিল মনে হয়, তাই কেস ছাড়া ব্যবহার করা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন দেখতে আপনি Infinix Global সাইটটি ভিজিট করতে পারেন।
২. ডিসপ্লে ও পারফরম্যান্সের মেলবন্ধন
ফোনটিতে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির ১৪৪ হার্টজ অ্যামোলেড ডিসপ্লে। এর পিক ব্রাইটনেস ৪৫০০ নিটস, যা দুপুরের কড়া রোদেও স্ক্রিনকে পরিষ্কার রাখে। সুরক্ষার জন্য এতে রয়েছে গরিলা গ্লাস ৭আই (Gorilla Glass 7i)।
পারফরম্যান্সের জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে Snapdragon 7s Gen 4 এসওসি। সাথে রয়েছে বিশেষ ভেপার চেম্বার কুলিং সিস্টেম। ইনফিনিক্সের দাবি অনুযায়ী, ‘অনার অফ কিংস’-এর মতো জনপ্রিয় গেমগুলোতে আপনি ১২০ এফপিএস (FPS) পর্যন্ত ফ্রেম রেট পাবেন। এছাড়া এতে ‘বক্স-পাস চার্জিং’ সুবিধা রয়েছে, যা গেমিংয়ের সময় ব্যাটারিকে সরাসরি পাওয়ার সাপ্লাই দেয় এবং ফোন গরম হওয়া রোধ করে।
৩. ব্যাটারি এবং ব্যাটারি সেলফ-হিলিং ফিচার
এই ফোনের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর ৬৫০০mAh ব্যাটারি (কিছু মার্কেটে ৬০০০mAh হতে পারে)। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো ‘ব্যাটারি সেলফ-হিলিং’ (Battery Self-healing) টেকনোলজি। এটি মূলত কেমিস্ট্রি এবং চার্জিং কন্ট্রোলের মাধ্যমে ব্যাটারির আয়ু দীর্ঘস্থায়ী করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
চার্জিংয়ের জন্য এতে রয়েছে ৯০ ওয়াট ওয়্যারড এবং ৩০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা। এর সফটওয়্যার হিসেবে থাকছে অ্যান্ড্রয়েড ১৬ ভিত্তিক এক্সওএস ১৬ (XOS 16)। কোম্পানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ৩ বছরের ওএস আপডেট এবং ৫ বছরের সিকিউরিটি সাপোর্ট। স্মার্টফোনের নিয়মিত নিউজ জানতে GSM Arena এর মতো পোর্টালগুলো দেখতে পারেন।
৪. ইউনিক ফিচারসমূহ: কাস্টম বাটন ও হেলথ সেন্সর
ইনফিনিক্স এই ফোনে কিছু অভিনব ফিচার যুক্ত করেছে যা অন্য ফোনে দেখা যায় না।
-
কাস্টম বাটন: বাম দিকে একটি বাটন রয়েছে যা আপনি নিজের পছন্দমতো কাস্টমাইজ করতে পারেন (যেমন- ফ্ল্যাশলাইট বা মিউট সুইচ)।
-
হেলথ সেন্সর: ফোনের ডান দিকে নিচে একটি হার্ট রেট এবং ব্লাড অক্সিজেন সেন্সর রয়েছে যা ইনফিনিক্স হেলথ স্যুটের সাথে কাজ করে।
-
Active Matrix Display: ক্যামেরার পাশে থাকা এই ডিসপ্লেতে আপনি কাস্টম অ্যানিমেশন এবং ইমোজি সেট করতে পারেন। এছাড়া এতে একটি ‘হ্যালো লাইট’ স্ট্যাটাস ইন্ডিকেটরও রয়েছে।
কেমন হলো ইনফিনিক্সের এই ফ্ল্যাগশিপ?
পরিশেষে বলা যায়, Infinix Note 60 Pro Unboxing করার পর আমাদের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা বেশ ইতিবাচক। যদিও ফোনটি কিছুটা পিচ্ছিল এবং সেন্সরের অবস্থান অনেকের কাছে অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু এর পারফরম্যান্স, ডিসপ্লে এবং ব্যাটারি টেকনোলজি একে ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা মিড-রেঞ্জ ফ্ল্যাগশিপে পরিণত করেছে। আপনি যদি গেমিং এবং ইউনিক ফিচারের ভক্ত হন, তবে এই ফোনটি আপনার জন্য একটি দারুণ পছন্দ হতে পারে।
মূল শিক্ষা:
- স্ন্যাপড্রাগন ৭এস জেন ৪ এর সাথে ১২০ এফপিএস গেমিং।
- ৬৫০০mAh ব্যাটারির সাথে সেলফ-হিলিং টেকনোলজি।
- বক্সেই থাকছে ৯৩ ওয়াট চার্জার ও ম্যাগসেফ কেস।
আপনার কি মনে হয় ইনফিনিক্সের এই হার্ট রেট সেন্সর ফিচারের বদলে একটি ক্যামেরা কন্ট্রোল বাটন দেওয়া উচিত ছিল? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ):
প্রশ্ন ১: Infinix Note 60 Pro এর বাংলাদেশে দাম কত হতে পারে? উত্তর: অফিশিয়ালি বাংলাদেশে এখনও দাম ঘোষণা না হলেও এর গ্লোবাল প্রাইস অনুযায়ী এটি ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকার মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশ্ন ২: এই ফোনে কি হেডফোন জ্যাক আছে? উত্তর: না, এই ফোনে আলাদা হেডফোন জ্যাক নেই, তবে বক্সেই একটি ইউএসবি-সি ইয়ারবাডস দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাজুস নির্ধারিত স্বর্ণ ও রুপার দাম ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: সর্বশেষ রেট ও পূর্ণাঙ্গ চার্ট